আশুরার রোজা কয়টি ও কখন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪ ৪০ বার পড়া হয়েছে

আশুরার রোজা কয়টি ও কখন

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামনে পবিত্র ও মর্যাদা পূর্ণ মহরম মাস। এ মাস উপলক্ষে অনেকেই আশুরার রোজা কয়টি ও কখন সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। মহরমকে ঘিরে অনেক ইতিহাস এবং ঐতিহ্য রয়েছে। মহরম মাসের ১০ তারিখ মুসলিম বিশ্বের তাৎপর্যপূর্ণ আশুরার দিন। এই দিনের সবচাইতে বেশি তাৎপর্য হলো কারবালার সেই হৃদয়বিদারক ইতিহাস। আশুরার ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় ঘটনার মধ্যে রয়েছে মুসা (আ.) এর একটি ঘটনা। এই দিনে তিনি অত্যাচারীর শাসক ফিরাউনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

আশুরার রোজা কয়টি ও কখন?

ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহ এবং সাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস রহমতুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আমাদের প্রিয় নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় পৌঁছে ইহুদিদের আশুরার রোজা পালন করতে দেখেন আশুরার দিনে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন তোমরা কেন রোজা পালন করছো। আশুরা রোজা পালন করার ব্যাপারে তারা উত্তরে বলে এই দিনটি অনেক বড়। এই দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসা (আ.) ও তার সংগীদের ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন। সেই সাথে ফেরাউনকে নীল নদের পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এই কৃতজ্ঞতা উপলক্ষে মুসা (আ.) আশুরার রোজা পালন করতেন এবং আমরাও পালন করে থাকি।

এই উত্তর শুনে আমাদের প্রিয় রাসূল করিম (সা.) বলেন, মুসা (আ.) এর কৃতজ্ঞতা অনুসরণের চেয়ে আমরা বেশি যত্নশীল হওয়ার অধিকারী। তারপর থেকে তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখতেন এবং মুসলমানদের পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। (বুখারী, হাদিস:৩৩৯৭, মুসলিম, হাদিস: ১১৩৯)

এছাড়াও আরো অনেক গুলো হাদিসে রাসুল (সা.) আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। যার মধ্যে নিম্নে কয়েকটি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হলো।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সা.) বলেন, পবিত্র রমজান মাসের রোজার পর সবচাইতে উত্তম রোজা হচ্ছে মহরম মাসের আশুরার রোজা। (সুনানে কুবরা, হাদিস: ৮৪২১০)

আশুরার রোজা কয়টি ও কখন

মুসলিম শরীফে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরও রোজা পালন করা নির্দেশ প্রদান করতেন তখন সাহাবীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করতেন, হে আল্লাহর রাসূল, বিধর্মীরা তো এই দিনটিকে অনেক বড় মনে করে পালন করে। আমরা যদি আশুরার রোজা রাখি তাহলে তো তাদের সাথে সামঞ্জস্য করা হবে।

এ প্রশ্নের উত্তরে মহানবী (সা.) বলেন, তারা যেহেতু এই দিনে একটি রোজা পালন করে আমরা সামনের বছর থেকে ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে ২ দিন রোজা পালন করব ইনশাল্লাহ। (মুসলিম, হাদিস: ১১৩৪)

উপরোক্ত হাদিস গুলো থেকে এটি প্রমাণিত হয় যে আশুরার রোজা হবে ২ টি। যার ১ টি হবে মহরমের ১০ তারিখে এবং অপর একটি হবে ৯ অথবা ১১ তারিখে।

আশা করি আপনাদের আশুরার রোজা কয়টি এবং কখন পালন করতে হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হয়েছে।

আশুরার রোজা সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,

“আমার জানামতে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য দিন গুলির রোজার তুলনায় আশুরার রোজার ফজিলত লাভের জন্য সবচাইতে বেশি উদগ্রীব থাকতেন। তেমনিভাবে অন্যান্য মাসের রোজার তুলনায় রমজান মাসে রোজার ব্যাপারে। (মুসলিম: ১১৩২)

আমাদের প্রিয় নবী রাসূল (সা.) আশুরার রোজা নিজে পালন করেছেন এবং তার উম্মতদেরকেও এ রোজা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমাদের তার কথা অনুসরণ করা আবশ্যক।

ঘরে বসে অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করা যায় জানতে এখানে প্রবেশ করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

আশুরার রোজা কয়টি ও কখন

আপডেট সময় : ১২:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

সামনে পবিত্র ও মর্যাদা পূর্ণ মহরম মাস। এ মাস উপলক্ষে অনেকেই আশুরার রোজা কয়টি ও কখন সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। মহরমকে ঘিরে অনেক ইতিহাস এবং ঐতিহ্য রয়েছে। মহরম মাসের ১০ তারিখ মুসলিম বিশ্বের তাৎপর্যপূর্ণ আশুরার দিন। এই দিনের সবচাইতে বেশি তাৎপর্য হলো কারবালার সেই হৃদয়বিদারক ইতিহাস। আশুরার ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় ঘটনার মধ্যে রয়েছে মুসা (আ.) এর একটি ঘটনা। এই দিনে তিনি অত্যাচারীর শাসক ফিরাউনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

আশুরার রোজা কয়টি ও কখন?

ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহ এবং সাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস রহমতুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আমাদের প্রিয় নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় পৌঁছে ইহুদিদের আশুরার রোজা পালন করতে দেখেন আশুরার দিনে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন তোমরা কেন রোজা পালন করছো। আশুরা রোজা পালন করার ব্যাপারে তারা উত্তরে বলে এই দিনটি অনেক বড়। এই দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসা (আ.) ও তার সংগীদের ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন। সেই সাথে ফেরাউনকে নীল নদের পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এই কৃতজ্ঞতা উপলক্ষে মুসা (আ.) আশুরার রোজা পালন করতেন এবং আমরাও পালন করে থাকি।

এই উত্তর শুনে আমাদের প্রিয় রাসূল করিম (সা.) বলেন, মুসা (আ.) এর কৃতজ্ঞতা অনুসরণের চেয়ে আমরা বেশি যত্নশীল হওয়ার অধিকারী। তারপর থেকে তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখতেন এবং মুসলমানদের পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। (বুখারী, হাদিস:৩৩৯৭, মুসলিম, হাদিস: ১১৩৯)

এছাড়াও আরো অনেক গুলো হাদিসে রাসুল (সা.) আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। যার মধ্যে নিম্নে কয়েকটি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হলো।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সা.) বলেন, পবিত্র রমজান মাসের রোজার পর সবচাইতে উত্তম রোজা হচ্ছে মহরম মাসের আশুরার রোজা। (সুনানে কুবরা, হাদিস: ৮৪২১০)

আশুরার রোজা কয়টি ও কখন

মুসলিম শরীফে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরও রোজা পালন করা নির্দেশ প্রদান করতেন তখন সাহাবীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করতেন, হে আল্লাহর রাসূল, বিধর্মীরা তো এই দিনটিকে অনেক বড় মনে করে পালন করে। আমরা যদি আশুরার রোজা রাখি তাহলে তো তাদের সাথে সামঞ্জস্য করা হবে।

এ প্রশ্নের উত্তরে মহানবী (সা.) বলেন, তারা যেহেতু এই দিনে একটি রোজা পালন করে আমরা সামনের বছর থেকে ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে ২ দিন রোজা পালন করব ইনশাল্লাহ। (মুসলিম, হাদিস: ১১৩৪)

উপরোক্ত হাদিস গুলো থেকে এটি প্রমাণিত হয় যে আশুরার রোজা হবে ২ টি। যার ১ টি হবে মহরমের ১০ তারিখে এবং অপর একটি হবে ৯ অথবা ১১ তারিখে।

আশা করি আপনাদের আশুরার রোজা কয়টি এবং কখন পালন করতে হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হয়েছে।

আশুরার রোজা সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,

“আমার জানামতে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য দিন গুলির রোজার তুলনায় আশুরার রোজার ফজিলত লাভের জন্য সবচাইতে বেশি উদগ্রীব থাকতেন। তেমনিভাবে অন্যান্য মাসের রোজার তুলনায় রমজান মাসে রোজার ব্যাপারে। (মুসলিম: ১১৩২)

আমাদের প্রিয় নবী রাসূল (সা.) আশুরার রোজা নিজে পালন করেছেন এবং তার উম্মতদেরকেও এ রোজা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমাদের তার কথা অনুসরণ করা আবশ্যক।

ঘরে বসে অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করা যায় জানতে এখানে প্রবেশ করুন।