যে সকল কারণে আমরা সব ভুলে যাই
- আপডেট সময় : ০৩:০৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
ভুলে যাওয়া রোগটি বয়স্কদের ক্ষেত্রে খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু বর্তমান যুগে অনেক কম বয়সী ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রেও ভুলে যাওয়া রোগ দেখা দিচ্ছে। ভুলে যাওয়া আসলে কি কোন রোগ?
ভুলে যাওয়া রোগ বা ডিমেনশিয়া শুধু একা একটি রোগের লক্ষণ নয়। এর সাথে প্রকাশ পায় মস্তিষ্কের অন্যান্য রোগ এবং কর্মক্ষমতা লোপ পাওয়ার লক্ষণ। আস্তে আস্তে এই সমস্যাটির কারণে ব্যক্তিগত সমস্যা, বুদ্ধিবৃত্তির লোপ, মানসিকভাবে দুর্বল হওয়া ইত্যাদির লক্ষণ শুরু হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে ভুলে যাওয়ার রোগের কিছু প্রতিকারযোগ্য উপায় আছে আবার কিছু আছে যেগুলো অপ্রতিরোধ্য।
ভুলে যাওয়া রোগের কারণ
• মস্তিষ্কের নিউরন গুলি শুকিয়ে যাওয়া,
• একাধিকবার ব্রেইন স্ট্রোক করা,
• ভিটামিনের অভাব বিশেষ করে ভিটামিন বি১২,
• মস্তিষ্কের বিভিন্ন রকম সংক্রমণ রোগ হওয়া যেমন: এইডস, নিউসিফিলিস ইত্যাদি,
• ব্রেন টিউমারের কারণে মানুষের ভুলে যাওয়া রোগ হতে পারে,
• মাথায় বড় ধরনের আঘাত পেলে ভুলে যাওয়া সমস্যা তৈরি হতে পারে,
• দেহে বিভিন্ন রকম হরমোনের সমস্যা কিংবা ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে,
• দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রকমের ওষুধ সেবন করা,
• ভুলে যাওয়া রোগটি অনেক সময় বংশগত ভাবেও আসে,
• মাদক সেবনের কারণে ও মস্তিষ্কের নিউরনগুলি নষ্ট হয়ে ভুলে যাওয়া রোগ তৈরি হতে পারে,
• যারা সব সময় মানসিকভাবে বিষন্নতায় ভোগেন কিংবা মানসিক চাপে থাকে তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ হতে পারে,
যে সকল কারণে আমরা সব ভুলে যাই
কিভাবে বুঝবেন আপনার ভুলে যাওয়া রোগ হয়েছে
• ভুলে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে প্রথম যে লক্ষণটি দেখা যায় সেটি হচ্ছে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া। অর্থাৎ অল্প কিছুদিন আগের ঘটনা বা কোন কথা মনে করতে না পারা,
• কাজের ক্ষেত্রে নানা রকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি। কাজের দিক নির্দেশনা ঠিকভাবে মনে না করতে পারা,
• ভুলে যাওয়া রোগীরা অনেক সময় খুব সহজ সহজ শব্দ মনে করতে পারে না। আবার অনেক সময় চেনা রাস্তা ভুলে যায়।
• কোন কিছু দেখে তাৎক্ষণিক বিচার এবং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা লোপ পাওয়া,
• ছোট ছোট জিনিসপত্র গুলো হারিয়ে ফেলা কিংবা কোথায় রেখেছে মনে করতে পারে না।
• ভুলে যাওয়া রোগের কারণে খাবারে অনীহা কিংবা অরুচি দেখা যেতে পারে। সেই সাথে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
ভুলে যাওয়া রোগের চিকিৎসা
ভুলে যাওয়া রোগের চিকিৎসা নিতে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে উচিত সঠিক একজন নিউরোলজিস্টেে অধীনে চিকিৎসা সেবা নেওয়া। এবং তার অধীনে থেকে নিয়মিত বিভিন্ন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং সেই অনুযায়ী মেডিসিন গ্রহণ করা।
এর পাশাপাশি অবশ্যই আপনাকে স্বাস্থ্যকর এবং নিয়ম মেনে লাইফ মেইনটেইন করতে হবে। চা, কফি, কিংবা ক্যাফেইন জাতীয় খাবার পরিহার করে সাস্থ্যকর খাবার এবং বেশি বেশি শাকসবজি খেতে হবে।

