রিজিক কমে যাওয়ার কারণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০২৪ ৬০ বার পড়া হয়েছে

রিজিক কমে যাওয়ার কারণ

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র কুরআন এবং হাদিস থেকে রিজিক কমে যাওয়ার কারণ গুলি আজকে আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। আমাদের বেশ কিছু কর্মের কারণে রিজিক কমে যায়। যার কারণে আমরা অনেক সময় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ি। কিন্তু এমতাবস্থায় হতাশ না হয়ে এর যে কমে যাওয়ার কারণ গুলি অনুসন্ধান করা উচিত এবং মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ প্রার্থনা করা উচিত।

রিজিক কমে যাওয়ার কারণ গুলো কি কি

পাপকর্মে লিপ্ত হওয়া

আমাদের রিজিক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বিভিন্ন গুনা এবং পাপ কাজে লিপ্ত থাকা। এ সকল গুনাহ কর্মের ফলে শুধুমাত্র আমাদের রিজিকই কমে যায় না বরং আমরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। সাওবান (রা.) কর্তৃক উল্লেখিত আছে যে, রাসুল (সা.) বলেছেন, সৎকর্মের ফলে মানুষের হায়াত বাড়তে পারে এবং দোয়ার কারণে মানুষের তকদিরও পরিবর্তন হতে পারে। আর মানুষ তার কৃত পাপ কর্মের কারণে তা প্রাপ্য রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,০২২)

কৃতজ্ঞতা আদায় না করা

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে অনেক কিছুই দিয়েছেন। এমনকি আমরা এত এত পাপকর্মে লিপ্ত থাকার ফলেও আমাদেরকে রিজিক দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালার সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে সেটি ছিনিয়ে নেয়া হয়। যার ফলে কমে যায় রিজিক।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আর তোমরা যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে মনে রেখো, আমার শাস্তি বড়ই কঠোর। (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৭)।

ধোঁকা দেওয়া ও মিথ্যা কসম খাওয়া

কাউকে ধোকা দেওয়া এবং মিথ্যা কসম খাওয়ার ফলে আমাদের আয় উপার্জনের বরকত কমে যায়। আর আয় উপার্জনের বরকত কমে যাওয়া মানে রিজিক কমে যাওয়া। অনেক সময় আমরা ব্যবসায় কিংবা চাকুরী জীবনে মিথ্যা কসম খেয়ে থাকি কিংবা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকি। যেগুলো ধোঁকা, প্রতারনার অন্তর্ভুক্ত এবং রিজিক কমে যাওয়ার কারণ।

মিথ্যা বলে কিংবা কোন পণ্যের দোষ গোপন করে সেটি বিক্রি করাও ধোকার অন্তর্ভুক্ত। আবার অনেক সময় পণ্য কিংবা সেবার ব্যাপারে মিথ্যা কসম খেয়ে সেগুলো বিক্রি করার চেষ্টা করি। এর কারণে ব্যবসায়িক বরকত কমে যায়।

সুদ খাওয়া ও সুদের কারবার করা

আমাদের সমাজে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সুদের কারবার। অনেকের দৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ ব্যবসা মনে হলেও মারাত্মক গুনাহের কাজ হচ্ছে সুদ খাওয়া।

সুদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করে দেন এবং সাদাকাকে বর্ধিত করে দেন। (সূরা বাকারা, আয়াত:২৭৬)

আমাদের সমাজে যখন সুদের কারবার অনেক বেশি প্রচলিত হয় তখন সেই সমাজ অধঃপতনের দিকে যায়। সেই সাথে হালাল উপার্জনে রিজিক বৃদ্ধি পায় এবং হালাল টাকার সাদকাহতে অর্থ উপার্জনে বরকত আসে।

রিজিক কমার কারণ

যাকাত প্রদান না করা

ইসলামের মৌলিক ভিত্তিক গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যাকাত প্রদান করা। যাকাতের মাধ্যমে ধনী এবং গরিবদের মধ্যে ভারসাম্য ঠিক থাকে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি যাকাত প্রদান না করে তাহলে তার রিজিকের বরকত কমে যায়। এটি রিজিক কমে যাওয়ার কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম।

যাকাতের ব্যাপারে আমাদের প্রিয় নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন জাতি কিংবা গোষ্ঠী যাকাত দেওয়া বন্ধ করে দেয় তখন আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই সাথে পৃথিবীতে যদি কোন চতুষ্পদ জন্তু অর্থাৎ চার পায়ের প্রানী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টি হত না। (হাদীসটি উল্লেখিত রয়েছে ইবনে মাজাহ তে, হাদিস নম্বর: ৪,০১৯)

মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করে থাকেন বলেই আমরা এত পাপ কার্য করেও বেঁচে থাকি। কিন্তু অনেক সময় আমাদের ভুলের কারণেই আয় উপার্জনে বরকত কমে যায়। তাইতো রিজিক কমে যাওয়ার কারণ গুলি সবারই জানা থাকা উচিত এবং এই সকল গুনাহের কাজ থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

রিজিক কমে যাওয়ার কারণ

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০২৪

পবিত্র কুরআন এবং হাদিস থেকে রিজিক কমে যাওয়ার কারণ গুলি আজকে আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। আমাদের বেশ কিছু কর্মের কারণে রিজিক কমে যায়। যার কারণে আমরা অনেক সময় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ি। কিন্তু এমতাবস্থায় হতাশ না হয়ে এর যে কমে যাওয়ার কারণ গুলি অনুসন্ধান করা উচিত এবং মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ প্রার্থনা করা উচিত।

রিজিক কমে যাওয়ার কারণ গুলো কি কি

পাপকর্মে লিপ্ত হওয়া

আমাদের রিজিক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বিভিন্ন গুনা এবং পাপ কাজে লিপ্ত থাকা। এ সকল গুনাহ কর্মের ফলে শুধুমাত্র আমাদের রিজিকই কমে যায় না বরং আমরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। সাওবান (রা.) কর্তৃক উল্লেখিত আছে যে, রাসুল (সা.) বলেছেন, সৎকর্মের ফলে মানুষের হায়াত বাড়তে পারে এবং দোয়ার কারণে মানুষের তকদিরও পরিবর্তন হতে পারে। আর মানুষ তার কৃত পাপ কর্মের কারণে তা প্রাপ্য রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪,০২২)

কৃতজ্ঞতা আদায় না করা

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে অনেক কিছুই দিয়েছেন। এমনকি আমরা এত এত পাপকর্মে লিপ্ত থাকার ফলেও আমাদেরকে রিজিক দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালার সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে সেটি ছিনিয়ে নেয়া হয়। যার ফলে কমে যায় রিজিক।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আর তোমরা যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে মনে রেখো, আমার শাস্তি বড়ই কঠোর। (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৭)।

ধোঁকা দেওয়া ও মিথ্যা কসম খাওয়া

কাউকে ধোকা দেওয়া এবং মিথ্যা কসম খাওয়ার ফলে আমাদের আয় উপার্জনের বরকত কমে যায়। আর আয় উপার্জনের বরকত কমে যাওয়া মানে রিজিক কমে যাওয়া। অনেক সময় আমরা ব্যবসায় কিংবা চাকুরী জীবনে মিথ্যা কসম খেয়ে থাকি কিংবা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকি। যেগুলো ধোঁকা, প্রতারনার অন্তর্ভুক্ত এবং রিজিক কমে যাওয়ার কারণ।

মিথ্যা বলে কিংবা কোন পণ্যের দোষ গোপন করে সেটি বিক্রি করাও ধোকার অন্তর্ভুক্ত। আবার অনেক সময় পণ্য কিংবা সেবার ব্যাপারে মিথ্যা কসম খেয়ে সেগুলো বিক্রি করার চেষ্টা করি। এর কারণে ব্যবসায়িক বরকত কমে যায়।

সুদ খাওয়া ও সুদের কারবার করা

আমাদের সমাজে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সুদের কারবার। অনেকের দৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ ব্যবসা মনে হলেও মারাত্মক গুনাহের কাজ হচ্ছে সুদ খাওয়া।

সুদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করে দেন এবং সাদাকাকে বর্ধিত করে দেন। (সূরা বাকারা, আয়াত:২৭৬)

আমাদের সমাজে যখন সুদের কারবার অনেক বেশি প্রচলিত হয় তখন সেই সমাজ অধঃপতনের দিকে যায়। সেই সাথে হালাল উপার্জনে রিজিক বৃদ্ধি পায় এবং হালাল টাকার সাদকাহতে অর্থ উপার্জনে বরকত আসে।

রিজিক কমার কারণ

যাকাত প্রদান না করা

ইসলামের মৌলিক ভিত্তিক গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যাকাত প্রদান করা। যাকাতের মাধ্যমে ধনী এবং গরিবদের মধ্যে ভারসাম্য ঠিক থাকে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি যাকাত প্রদান না করে তাহলে তার রিজিকের বরকত কমে যায়। এটি রিজিক কমে যাওয়ার কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম।

যাকাতের ব্যাপারে আমাদের প্রিয় নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন জাতি কিংবা গোষ্ঠী যাকাত দেওয়া বন্ধ করে দেয় তখন আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই সাথে পৃথিবীতে যদি কোন চতুষ্পদ জন্তু অর্থাৎ চার পায়ের প্রানী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টি হত না। (হাদীসটি উল্লেখিত রয়েছে ইবনে মাজাহ তে, হাদিস নম্বর: ৪,০১৯)

মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করে থাকেন বলেই আমরা এত পাপ কার্য করেও বেঁচে থাকি। কিন্তু অনেক সময় আমাদের ভুলের কারণেই আয় উপার্জনে বরকত কমে যায়। তাইতো রিজিক কমে যাওয়ার কারণ গুলি সবারই জানা থাকা উচিত এবং এই সকল গুনাহের কাজ থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।